Mir Bari

মীর বাড়ি -
নন্দলালপুরে বসবাসবাসরত জমিদার পরিবারের বাসভুমি ।

প্রাক্তন জমিদার সৈয়দ মীর মোঃ আব্দুল খালেক ছিলেন এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ।

সৈয়দ মীর মোঃ আব্দুল খালেক ছিলেম সৈয়দ মীর মোঃ আব্দুল আজিম এর পুত্র ।

১৯৫০ সালের পূর্ব পাকিস্থান এস্টেট একুইজিশন এক্ট - ১৯৫০ এর কারনে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হয় । পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তি ঘোষণা করেন ।

এই বাড়িতে বর্তমানে জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকার প্রজন্ম বসবাস করছেন ।


জমিদারীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

জমিদার সৈয়দ মীর মোঃ আব্দুল খালেক চাকুরী করতেন ফরিদপুরের (বর্তমানে রাজবাড়ি জেলা)  পদমদী নবাব এস্টেটে । কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি পদমদী নবাব এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন । কিছু সময় তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার জমিদারী এস্টেটে ম্যানেজারি করেন ।

পদমদী জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন "সৈয়দ শাহ পাহলোয়ান", যিনি জমিদারীত্ব পান ১৬০৭ সালে।
তিনিই ছিলেন পদমদী জমিদারীর প্রথম জমিদার ।

সৈয়দ শাহ পাহলোয়ানের হাতে শুরু হওয়া পদমদী জমিদারী-র পরবর্তী জমিদারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, সৈয়দ মীর সাদুল্লাহ এবং সৈয়দ মীর উমর দরাজ এবং সৈয়দ মীর ইব্রাহীম হোসেন । সৈয়দ মীর ইব্রাহীম হসেনের পুত্র সন্তান ছিলেন নবাব সৈয়দ মীর মুয়াজ্জেম হোসেন । 


পরবর্তীকালের বিভিন্ন জমিদারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, নবাব সৈয়দ মীর মুয়াজ্জেম হোসেন, যিনি বিয়ে করেন দৌলাতুন্নেসা বেগমকে । জমিদার নবাব সৈয়দ মীর মুয়াজ্জেম হোসেন ও দৌলাতুন্নেসা বেগম- এর সন্তান "সৈয়দ মীর মশাররফ হোসেন" যিনি "বিষাদ সিন্ধু " উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত ।

সৈয়দ মীর মোয়াজ্জেম হোসেন এবং দৌলাতুন্নেসা বেগম এর চার সন্তান ছিল । বড় সন্তান সৈয়দ মীর মশাররফ হোসেন, দ্বিতীয় সৈয়দ মীর মহতেশাম, তৃতীয় সৈয়দ মীর মোকাররম, চতুর্থ সৈয়দ মীর বজলাল এবং একমাত্র কন্যা সন্তানের নাম শামসুন নেসা ।
 



সৈয়দ মীর মশাররফ হোসেন ১৮৬৫ সালে আজিমুন্নেসা বেগমকে এবং ১৮৭৪ সালে বিবি কুলসুমকে বিয়ে করেন । 

১৮৬০ সাল থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত জমিদার ছিলেন "সৈয়দ মীর সিরাজুল হক" যিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার-এর জমিদারকন্যালে বিয়ে করেন এবং তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান ছিলেন সৈয়দ মীর শামসুল হক ।


ক্যাপ্টেন সৈয়দ মীর শামসুল হক, ১৮৯০ সালে পদমদীর জমিদার হন
। তিনি ইন্ডিয়ান এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং ১৯৪১ সালে "রয়্যাল ইন্ডিয়ান আর্মি" তে কমিশন লাভ করেন । স্টেশন ট্রান্সপোর্ট অফিসার হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লক্ষনৌ তে দায়িত্ব পালন করেন লেফট্যানেন্ট কর্নেল লংস্টোন এর অধীনে । 

ফরিদপুরের পদমদী নবাব এস্টেটের তৎকালীন জমিদার "সৈয়দ মীর শামসুল হক" এর অধীনে ম্যানেজার হিসেবে চাকুরী করতেন নন্দলালপুরের জমিদার "সৈয়দ মীর আব্দুল খালেক" । নন্দলালপুরের জমিদারীর সূত্রপাত "সৈয়দ মীর আব্দুল খালেক" -এর মাধ্যমেই ঘটে ।  সৈয়দ মীর  আব্দুল খালেক এর পিতা ছিলেন সৈয়দ শাহ্‌ আব্দুল আজিম। সৈয়দ শাহ্‌ আলী বাগদাদী-র বংশধর ছিলেন সৈয়দ শাহ্‌ হাবীব মারদানে খোদা (ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার বনমালদিয়া -গ্রামে তার মাজার অবস্থিত)। সৈয়দ শাহ্‌ হাবীব মারদানে খোদার পরবর্তী প্রজন্ম হলেন, সৈয়দ শাহ্‌ আব্দুল আজিম এবং সৈয়দ মীর  আব্দুল খালেক । 


বর্তমানে পদমদী জমিদারীর প্রধান লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ মীর আলী ইমাম আল মামুন  (Titular Nawab)


নন্দলালপুরের "সৈয়দ" বংশের ইতিবৃত্ত

ঢাকার মিরপুরের বিশিষ্ট সূফী ব্যক্তিত্ব সৈয়দ শাহ্‌ আলী বোগদাদী-র বংশধর নন্দলালপুরের "সৈয়দ" - বংশের লোকেরা ।  সৈয়দ শাহ্‌ আলী বোগদাদী-র বংশধর সৈয়দ শাহ্‌ হাবীবুল্লাহ বনমালদিয়া আসেন । সৈয়দ শাহ্‌ হাবীবুল্লাহ এর বংশধর সৈয়দ শাহ্‌ আব্দুল আজিম এবং তার পুত্র ছিলেন, সৈয়দ মীর আব্দুল খালেক এবং সৈয়দ মীর আব্দুল খালেক-এর চার পুত্র ছিলেন যার মধ্যে বড় সন্তান খুব অল্প বয়সেই মারা যান, বাকি তিনজন হলেন, সৈয়দ মীর শামস-উজ-জোহা, সৈয়দ মীর শামস-উল-উলা এবং সৈয়দ মীর শামস-উল-উলা । এছাড়া তার চার কন্যা ছিলেন, সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম এবং বাকি ৩ জনের নাম জানা যায় নি । 

সৈয়দ মীর শামস-উজ-জোহার (আখরোট মীর ) প্রথম স্ত্রীর এক জন পুত্র সন্তান এবং ৩ জন কন্যা সন্তান রয়েছে । সৈয়দ মীর খালেক-উজ-জামান এবং সৈয়দা আতি, সৈয়দা ইতি, সৈয়দা ইপি । সৈয়দ মীর শামস-উজ-জোহা-র দ্বিতীয় পক্ষে দুই জন পুত্র সন্তান এবং এক জন কন্যা রয়েছেন । তারা হলেন, সৈয়দ মীর আলিমুজ্জামান শিপু, সৈয়দ মীর শাকিলুজ্জামান  সেতু

সৈয়দ মীর শামস-উল-উলা (বাদাম মীর)-র প্রথম স্ত্রীর দুইজন পুত্র সন্তান রয়েছে । দ্বিতীয় স্ত্রীর একজন পুত্র সন্তান এবং দুই কন্যা সন্তান রয়েছে । দ্বিতীয় স্ত্রীর পুত্র সন্তান সৈয়দ মীর রোহানুজ্জামান রুমি ।

সৈয়দ মীর শামস-উদ-দোহা-র কোন সন্তান সন্ততি ছিল না ।

সৈয়দ মীর আব্দুল খালেকের কন্যা সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম এর দুই পুত্র সন্তান, সৈয়দ মীর ডাঃ আশরাফুল মোমিন (মিন্টু মীর) এবং   সৈয়দ মীর আশরাফুল ইসলাম (সেন্টু মীর) এবং তিন কন্যা রয়েছে । বর্তমানে সৈয়দ মীর শামস-উজ-জোহা এবং সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম জীবিত রয়েছেন এবং নন্দলালপুরে বসবাস করছেন। 

নন্দলালপুর মীর বাড়িতে বর্তমানে সৈয়দ মীর শামস-উজ-জোহা, সৈয়দ মীর শামস-উল-ওলা এবং সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম বসবাস করছেন । তাদের উত্তরসুরীদের মধ্যে, 

১/ সৈয়দ মীর ডাঃ আশরাফুল মোমিন
২/ সৈয়দ মীর আশরাফুল ইসলাম (মৃত)
৩/
সৈয়দ মীর ডাঃ খালেক-উজ-জামান (অপু মীর )
৪/ সৈয়দ মীর রোহানুজ্জামান রুমি 


এবং তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করছেন ।
 


ডাঃ এস. এম. এ. মোমিন
ডিএইচএমএস, হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিশনার


পিতার নামঃ এস. এম. ইয়াসিন আলী (পুলিশ অফিসার, যশোর মহকুমা সার্কেল, পাকিস্তান পিরিয়ড)

মাতার নামঃ সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম (প্রাক্তন জমিদার সৈয়দ মীর আব্দুল খালেক এর বড় কন্যা)

সন্তান সংখ্যাঃ এগারো জন

 

বড় সন্তানঃ  সৈয়দ মীর পাভেল আব্দুল্লাহ, পরিবারের বড় সন্তান, মাস্টার্স পাশ করে, বর্তমানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি জোনাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত, কোম্পানির কোয়ার্টারে ফেনীতে অবস্থান করছেন।  

দ্বিতীয় সন্তানঃ  সৈয়দ মীর শাহ্‌রিয়ার হোসেন শাহ্‌, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া এ পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অধ্যয়নরত এবং মালয়েশিয়াতে কর্মরত। এছাড়াও স্বদেশ এডুকেশন কনসালটেন্সি-র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও). ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ব্যাচেলর এবং প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে বর্তমানে পিএইচডি করছেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ মালয়েশিয়া (IIUM) এ । তিনি লামিয়া মেডিক্যাল সেন্টারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তৃতীয় সন্তানঃ  ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মীর তালহা জুবায়েদ (M.Sc. Engineering অধ্যয়নরত, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) ২০১৪ সালে Computer Science and Engineering বিষয়ের উপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম মেধাস্থান দখল করে সম্মানসহ  ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (B.Sc.) ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে (M.Sc. Engineering ডিগ্রীর জন্য গবেষণা করছেন Centre For Research and Innovation (CRI Unit-I) এর“সিগন্যাল প্রসেসিং এন্ড কম্পিউটেশনাল নিউরোসায়েন্স ল্যাব”জাপানের টকিয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং বিজ্ঞানী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডঃ খাদেমুল ইসলাম মোল্লা স্যারের অধীনে । তিনি গবেষণা করছেন “ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেসিং” নিয়ে। সৈয়দ মীর তালহা জুবায়েদ. ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার প্রসারের জন্য ২০১৩ সালের ১৬-ই সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠা করেন Royal Engineering Academy, Rajshahi (www.royalengineeringacademy.page.tl) যেখানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা শিক্ষার্থীরা B.Sc. Engineering এর সমমানের পরীক্ষা A.M.I.E. এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে। A.M.I.E. পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় BUET, CUET, RUET, এবং KUET এ। সৈয়দ মীর তালহা জুবায়েদ ২০-টির অধিক সংখ্যক পুস্তক রচনা করেছেন A.M.I.E. পরীক্ষার জন্য। বাংলাদেশের রুপপুরে নির্মাণাধীন প্রথম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট এর সম্ভাব্য  Nuclear Accident & Accident Management এর উপর তিনি উপর তিনি বর্তমানে গবেষণা করছেন এবং পুস্তক লেখার কাজ করছেন ।

ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মীর তালহা জুবায়েদ 

 

চতুর্থ সন্তানঃ  সৈয়দ মীর জুবায়ের হোসেন, পেশায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার (ইলেক্ট্রনিক্স), বর্তমানে মাইওয়ান টেলিভিশন কোম্পানিতে কর্মরত।

 

পঞ্চম সন্তানঃ  সৈয়দ মীর রিজভী জুবায়েদ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়নরত।


 ষষ্ঠ সন্তানঃ  সৈয়দ মীর ফাহাদ আব্দুল্লাহ, বর্তমানে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
 

 
১ম কন্যাঃ  সৈয়দা নওরিন জুবাইদা, বিবাহিতা, স্বামী, টাঙ্গাইলের ডরিন পাওয়ার প্ল্যান্টে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। (মীরবাড়িতে থেকে পি.এস.সি. পাশ, বাড়িতে ভাইদের তত্ত্বাবধানে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে স্বামীর তত্ত্বাবধানে দাখিল পাশ)

২য় কন্যাঃ সৈয়দা নওশিন জুবাইদা (পি.এস.সি. পাশ, বাড়িতে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত)

৩য় কন্যাঃ  সৈয়দা তাহসিন জুবাইদা (পি.এস.সি. পাশ, বাড়িতে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত)

 ৪র্থ কন্যাঃ  সৈয়দা তাবাচ্ছুম জুবাইদা (পি.এস.সি. পাশ, বাড়িতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত)

 ৫ম কন্যাঃ  সৈয়দা তানজিনা জুবাইদা (পি.এস.সি. পাশ, বাড়িতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত)

 

 

বর্তমান আবাসস্থলঃ নন্দলালপুরের প্রাক্তন জমিদারবাড়ি “মীরবাড়ি”তে সকল ভাইবোন বসবাস করছেন। তবে, চাকুরী এবং পড়াশুনার সুত্রে, এস এম পাভেল আব্দুল্লাহ ফেনীতে, ২য় ভাই শাহ্‌রিয়ার, মালয়েশিয়াতে, ৩য় ভাই, রাজশাহীতে এবং চতুর্থ ভাই ঢাকাতে অবস্থান করছেন।

 

বর্তমানে মীরবাড়িতে জমিদারীর আভিজাত্যপূর্ণ কোন জমিদারভবন বা অনুরুপ স্থাপনা নেই, যেহেতু, মাটিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বানানো ইট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল, পূর্বপুরুষ পীর সৈয়দ শাহ্‌ হাবীব এবং সৈয়দ শাহ্‌ আব্দুল আজিম কর্তৃক, তাই, অনুরুপ কোন ইটে তৈরি বৃহৎ জমিদারী স্থাপনা তৈরি করেনি প্রাক্তন জমিদার সৈয়দ মীর আব্দুল খালেক। এবং অনুরুপ স্থাপনা নেই বর্তমান “মীরবাড়িতে”। খুবই সাধারণ মানের মধ্যবিত্ত পরিবারের মতই সাধারণ মানের বাড়িঘর রয়েছে বর্তমান মীরবাড়িতে।



সৈয়দ বংশ সম্পর্কে কিছু বিষয়
 

"সৈয়দ" মূলত বংশ পরিচয় । এটি একটি অত্যন্ত সম্মানীয় টাইটেল যা নির্দেশ করে যে, উক্ত ব্যক্তি হযরত হাসান ইবন আলী এবং হুসাইন ইবন আলী-র মাধ্যমে, মহানবী( সঃ) এর বংশধর বা উত্তরসুরী । "সৈয়দ" বংশ পরিচয় মুলত মাতা বা পিতা উভয় মাধ্যমেই প্রাপ্ত হতে পারে । ১৬৩২ সালে যখন Ottoman সাম্রাজ্যের বা তুরস্ক সাম্রাজ্যের কোর্ট একজন ব্যক্তিকে "সৈয়দ" বংশের পরিচায়ক "সবুজ পাগড়ী" পরিধান করার দায়ে অভিযুক্ত করে, তখন উক্ত ব্যক্তি প্রমাণ করেন যে, তিনি তার মায়ের দিক থেকে "সৈয়দ" এবং সেই কোর্ট এটি মেনে নেয় । 


রেফারেন্সঃ 
http://en.wikipedia.org/wiki/Sayyid


"সৈয়দ" মূলত বংশ পরিচয় এবং "মীর" শব্দটি রাজদত্ত খেতাব । অনেক ঐতিহাসিকের মতে ১৭১৯-১৭৪৮ সালের মধ্যে সম্রাট মুহাম্মদ শাহর কাছ থেকে তারা এই খেতাব পান । মতান্তরে,

মুঘল সম্রাট শাহজাহান "মীর" উপাধি দেন । মুলত মুঘল আর্টিলারি - পরিচালনার জন্য এই খেতাব দেওয়া হয় । পরবর্তীতে এই পরিবারের সদস্যরা ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি, পাকিস্তান আর্মি, এবং বাংলাদেশ আর্মিতে যোগ দেন । ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে, পদমদী জমিদার পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন ।


মীর (Mir) টাইটেলটি আরবি "Emir" থেকে উদ্ভুত যা একটি রাজকীয় এবং সম্ভ্রান্ত টাইটেল এবং বিভিন্ন ইসলামিক দেশ বা রাজ্যে যেমন  Balochi, Ottoman Turkish, Persian, Turkish, Sindhi, Azerbaijani, Kurdish, Kashmiri এবং Pashto এই টাইটেলটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভারতের হায়দারাবাদ রাজ্যের "Nizam-ul-Mulk of Hyderabad" বা হায়দারাবাদের নিজামদের বংশপরিচয় বা টাইটেল হিসেবে Mir ব্যবহৃত হয়ে থাকে। Mir Qamar-ud-din Khan, Mir Ahmed Ali Khan, Mir Hidayat Muhi-ud-din Sa'adullah Khan, Mir Sa'id Muhammad Khan, Mir Nizam Ali Khan,Mir Akbar Ali Khan,Mir Tahniyath Ali Khan,Mir Mahbub Ali Khan,Mir Osman Ali Khan - ছিলেন পর্যায়ক্রমিকভাবে হায়দারাবাদের নিজাম বা শাসক। হায়দারাবাদের শেষ নিজাম মীর ওসমান  আলী খান এর ২৮ জন পুত্রসন্তান এবং ৪৪ জন কন্যাছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগের পর, স্বাধীন রাজ্য হায়দারাবাদকে ভারত আর্মি ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আক্রমণ করে এবং দখল করে নিয়ে ভারতের অধীন করে নেয়। শেষ নিজাম মীর ওসমান আলী খান ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭ সালে মারা যান।

মুঘল শাসনামল ও ব্রিটিশ ভারতের শাসনামলে কিছু রাজা বা শাসক শ্রেণি "Mir" টাইটেল অর্জন করে। বর্তমান পাকিস্তানের the Mir of Khairpur (১৭ গান স্যালুট) এবং the Mir of Hunza  (১৫ গান স্যালুট) অর্জন করেছিলেন।  নন-গান স্যালুট অবস্থায় ছিলেন, Mir of Mirpur (Khas),  Mir of Kharan, Mir of Amb (Tanawal), Mir of Nagar, Mir of Jandala State.

Honor Rank (Honorary Title) হিসেবেও  Mir ব্যবহৃত হয়। বেলুচিস্তানে এই সম্মানীয় টাইটেল দেওয়া হয়, Khan of Kalat এবং সর্দারের (Sardar) ছেলে এবং ভাইকে। যখন কোন মীরের অধীনে ১২ জন মীর থাকেন, তখন তিনি সর্দার (Sardar) হন । ধর্মীয় পরিপক্বতার উপর নির্ভর করেও এই সম্মানীয় টাইটেল দেওয়া হয়ে থাকে। "SYED sons or brothers remain as such until they fulfill the complete Islam requirement and hold the title of "MIR" instead of SYED".
 


"সৈয়দ এবং শরীফ" বংশ নিয়ে আরও কিছু বিষয়ঃ


১। পূর্বে, আরবে, মহানবী (সঃ) এর দৌহিত্র হযরত হাসান ইবন আলী (রাঃ) এবং হযরত হোসেন ইবন আলী (রাঃ) এর বংশধরদের সকলেই "সৈয়দ" এবং "শরীফ" বংশ পরিচয় ব্যবহার করতো । তবে, আধুনিক আরবে,  সৈয়দ বংশ পরিচয় ব্যবহার করা হয়ে থাকে যারা হযরত হোসেন ইবন আলী (রাঃ), "শরীফ" বংশ পরিচয় ব্যবহার করে থাকে তারাই যারা হযরত হাসান ইবন আলী (রাঃ) এর বংশধর ।


দক্ষিন এশিয়াতে "সৈয়দ"

১৯০১ সালে ব্রিটিশ ইন্ডীয়া তে "সৈয়দ" এর সংখ্যা ছিল ১,৩৩৩৯,৭৩৪ । সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দক্ষিন এশিয়াতে ১৫ মিলিয়ন এরও বেশি "সৈয়দ" রয়েছে যার মধ্যে পাকিস্তানে রয়েছে ৮ মিলিয়ন, ৭ মিলিয়ন রয়েছে ভারতে এবং ১ মিলিয়ন রয়েছে বাংলাদেশে । ৭০ হাজারের মতো "সৈয়দ" রয়েছে নেপালে । 

আরব, ইরান তথা মধ্যপ্রাচ্য থেকে "সৈয়দ" বংশের লোকেরা মধ্য এশিয়া (তুর্কিস্তান) সহ সিন্ধু প্রদেশে বসবাস শুরু করেন । 

ভারতের উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণটক, আন্ধ্রাপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, পশ্চিম বাংলা, মধ্য প্রদেশ, গুজরাট, তামিলনাড়ু এবং জম্বু, কাশ্মীরে সৈয়দরা বসবাস শুরু করেন । আরব, ইরান, পারস্য এবং কাশ্মির সহ অন্যান্য স্থান থেকে, "সৈয়দ" বংশের লোকেরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস গড়ে তোলেন ।



নন্দলালপুর "সৈয়দ" বংশের পূর্বসূরি -দের সম্পর্কে কিছু তথ্য:

নন্দলালপুরের সৈয়দ বংশ মূলত সূফী ব্যক্তিত্ব সৈয়দ শাহ্‌ আলী বোগদাদীর বংশধর।


সৈয়দ
শাহ আলী বোগদাদী ছিলেন তৎকালীন পাক-ভারত উপমহাদেশে সুদূর আরবাঞ্চল হতে ধর্ম প্রচারার্থে আসা অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছুফি ব্যক্তিত্ব। তিনি একশত [] সঙ্গী নিয়ে এতদাঞ্চলে আগমন করেন। তার নামানুসারে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা অদূরে মিরপুর-এক নম্বর নামক স্থানে শাহ আলীর মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জাতি-ধর্ম র্নিবিশেষে পূণ্যার্থে প্রতিদিন শতশত নারী-পুরুষের সমাবেশ ঘটে। []

 

জন্ম

শাহ আলীর জন্ম, দিল্লী বাংলাদেশ আগমন এবং মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে রয়েছে মতভেদ। তবে সকলের ঐক্যমত্যের বিষয়টি হল: শাহ আলীর জন্ম বাগদাদের ফোরাত নদীর তীরবর্তী একটি কসবাতে। []

বংশ পরিচিতি

তিনি হযরত আলী (রঃ)’ বংশধর। হযরত ইমাম হোসাইন হতে ইমাম আলী নকীর পিতা পর্যন্ত তার পূর্বপুরুষগনের মধ্যে সকলেই বসবাস করতেন মদিনায়। তার বংশ হতে শাহ ছৈয়দ সুলতান আলী সর্বপ্রথম বাগদাদে আসেন যিনি ছিলেন ইমাম আলী নকীর ছোট ভাই। পরবর্তীতে তিনি দিল্লীর সুলতাদের আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন [] বাগদাদের বাদশাহ সৈয়দ ফখরুদ্দিন রাজির জ্যেষ্ঠপুত্র [] ছিলেন ছৈয়দ শাহ্ আলী বোগদাদী।

তরীকার ধারা

পূর্ব হতে তিনি কাদেরীয়া তরীকা অনুসরণ করে থাকলেও সমসাময়িককালে ঢাকা তৎসংলগ্ন এলাকার প্রসিদ্ধ চিস্তিয়া ছুফি শাহ মোহাম্মদ বাহারের আস্তানায় গিয়ে তার নিকট চিশতিয়া তরিকা মোতাবেক বায়াত গ্রহণ [][] করেন। অতপর তিনি পীরের নির্দেশে ঢাকায় ইসলাম প্রচারকালে মিরপুরের এক স্থানে একটি জরাজীর্ণ মসজিদের সন্ধান পান সে মসজিদ সংলগ্ন স্থানটিকে তার ইবাদত বন্দেগীর স্থান হিসাবে গ্রহণ করেন।

মৃত্যু

পরবর্তীকালে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা একটি শিলালিপি উক্ত মাসজিদে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক গুরুত্ববাহী শিলালিপিতে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে ধারনা করা হয় শাহ আলী বোগদাদী ১৫৭৭ সালে মোগল আমলে মৃত্যুবরণ করেন। সন্ধান পাওয়া ধ্বংস প্রায় জরাজীর্ণ সমজিদে চর্তুদিকে বন্ধ অবস্থায় চল্লিশদিনের চিল্লা ব্রত পালন কালে তিনি নিহত হন।[][]

ঐতিহাসিক পটভূমী

শিয়া এবং সুন্নীদের ধর্ম বিরোধের সময় তিনি বাগদাদ নগরী হতে প্রস্থান করেন। অন্যদিকে দিল্লীর শাসকদের মধ্যে যখন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমাকার ধারণ করে তখন দিল্লীও ত্যাগ করেন। তিনি বাগদাদ হতে আসার পথে শেষ নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর মুই মোবারক (পবিত্র কেশধাম), হযরত হোসাইনের জুলফ, আবদুল কাদির জিলানীর পিরহান্ বংশগত উত্তরাধিকার হিসাবে সাথে এনেছিলেন।[]

১৪৮৯ সালে শাহ আলী বোগদাদী বাংলায় পর্দাপন করেন। দিল্লী হতে তিনি প্রথমে ফরিদপুরের গেদ্দায় [] নামক স্থানে আসেন। অতপর ঢাকার আশে-পাশে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। [] এমতাবস্থায় শাহ আলী বোগদাদী যখন মিরপুরাঞ্চলে এসে উপস্থিত হন তখন সেখানে জরার্জীর্ন অবস্থায় প্রায় ধংসোন্মুখ মসজিদটি দেখতে পান। বাহিরে তার অনুসারীগণ অবস্থান করলেও তিনি মসজিদের দরজা বন্ধ করে ভিতরে একা ৪০ দিনের মেয়াদে চিল্লায় বসেন। ভিতরে যতকিছুই হোক না কেন, তিনি তার মুরীদগণকে চিল্লার চল্লিশ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন অবস্থায়ই ভিতরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলেন। চিল্লার শেষ পর্যায়ে ৩৯ তম দিনে ভিতর হতে ভয়ংকর অওয়াজ ভেসে আসতে থাকে। যাতে মনে হচ্ছিল ভিতরে দুইট সত্ত্বার মধ্যে তুমুল লড়াই হচ্ছে। একা পক্ষ আর্তচিৎকার করছে। ফলে অসহায় হয়ে তার অনুসারীগণ দরজা ভেঙ্গে ফেলেন। দরজা ভাঙ্গার সাথে সাথে ভিতরের আওয়াজও বন্ধ হয়ে যায়[] অথচ সেখানে তারা তার রক্তাক্ত ছিন্ন বিচ্ছ্নি দেহ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি। সে সাথে একটি দৈববানী শুনতে পান যাতে বলা হয়, ‘যেখানে পড়ে আছে সেখানেই দাফন কর অতপর তাকে উক্ত মসজিদের ভিতরেই দাফন করা হয়। তখন হতে মসজিদটি তার দরগা শরীফে পরিণত হয়। সাধারণত আর কোন ছুফি-দরবেশের এরুপ মাজার কোথাও চোখে পড়েনা। তৎকালীন বাদশাহ নাসিরুল মুলক-এর আমলে হিজরী ১২২১ সালে (প্রায় ১৮০৭ ইং) মুহম্মদী শাহ নামক অপর এক ছুফি ব্যক্তিত্ব উক্ত দরগা শরীফকে তৃতীয় বারের মত পূণ নির্মাণ করেন। [][]

শাহ আলীর মসজিদ

শাহ আলী বোগদাদীর মাজার যে মসজিদে অবস্থিত তা তার নামে শাহ আলী মসজিদ হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করলেও মূলত তা তার আগমনপূর্ব একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। দিল্লী সম্রাট কতৃক মিরপুরে মসজিদটি নির্মিত হয়। একটি ঐতিহাসিক সূত্র হতে জানাযায়, বাংলার স্বাধীন সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে (১৪৭৪-১৪৮১) অঞ্চলের গভর্নর জহিরউদ্দীন খান হিজরি ৮৮৫ সাল মোতাবেক ১৪৮০ খৃষ্টাব্ধে এটি নির্মান করেন। ঢাকায় আদি ইট নির্মিত যে সকল পুরার্কীতি বা ঐতিহাসিক স্থাপত্য[] দেখা যায় তার মধ্যে বিনতা বিবির মসজিদটি (১৪৫৭) সর্বপ্রথম নির্মিত হয়। এরপরই নির্মিত হয় শাহ আলীর মসজিদ।

শাহ আলী থানা কলেজ

ঢাকার মিরপুরে শাহ আলী বোগদাদীর নামানুসারে শাহ আলী থানা শাহ আলী মহিলা কলেজ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। [][]

 

বহিঃসংযোগ

পীরমুর্শিদ ডট অরগ নিবন্ধ: সুলতানুল আউলিয়া হযরত ছৈয়দ শাহ্ আলী বোগদাদী (রহ:)

পাক্ষিক সময়ের বিবর্তন নিবন্ধ: মিরপুরের ইতিহাস তুরঙ্গম থেকে তুরাগ, সম্পাদনায়: মাহমুদ নাসির জাহাঙ্গীরি

নিউজপোর্টাল বহুমাত্রীক ডট কম নিবন্ধ:শীতলক্ষ্যার তীর থেকে সখ্যতায়-শত্রুতায় মোঘল আর গাজী/ সম্পাদনায়: . রফিকুল মোহাম্মদ

দৈনিক যুগান্তর নিবন্ধ: হজরত শাহ আলীর (রহ.) মাজারে ধনী-গরিবের একসঙ্গে ইফতার, সম্পাদনায়: মীর রাকীব-উন-নবী, প্রকাশ : ০৮ জুলাই, ২০১৪

দৈনিক ডিএমপি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম নিবন্ধ: ভাব-গম্ভীর পরিবেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল বরাত

গুগল ম্যাপ ঢাকার মিরপুর- শাহ আলী বোগদাদীর মাজার




তথ্যসূত্র

দৈনিক সংগ্রাম। "মিরপুর: আনন্দ-বেদনার সাতকাহন, লেখক: সাজজাদ হোসাইন খান"

দৈনিক ডিএমপি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম। "ভাব-গম্ভীর পরিবেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল বরাত"

পাক্ষিক সময়ের বিবর্তন। "মিরপুরের ইতিহাস তুরঙ্গম থেকে তুরাগ, সম্পাদনায়: মাহমুদ নাসির জাহাঙ্গীরি"

"সংবাদ মাধ্যম: শিরোনাম: সুলতানুল আউলিয়া হযরত ছৈয়দ শাহ্ আলী বোগদাদী (রহ:), পীরমুর্শিদ ডট অরগ"

নিউজপোর্টাল বহুমাত্রীক ডট কম। "শীতলক্ষ্যার তীর থেকে সখ্যতায়-শত্রুতায় মোঘল আর গাজী, সম্পাদনায়: . রফিকুল মোহাম্মদ"

আমাদের কথা। "বাংলায় সুফী দরবেশ অলি-আউলিয়াদের ইসলাম প্রচার"

বাংলাপিডিয়া। "শাহ আলী থানা,"[অকার্যকর সংযোগ]

দৈনিক জনকন্ঠ। "শাহ আলীতে বৃদ্ধাকে জবাই, বাথরুম থেকে লাশ উদ্ধার,"

 


সূত্রঃ
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80